September 10, 2026

TV Bangla New Agency

Just another WordPress site

কর্মজীবী নারী ও মায়েদের পাশে দাঁড়াতে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে আহ্বান

মুম্বই, ১০ সেপ্টেম্বর: অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের স্মৃতিকথা ‘Indomitable’-এর হিন্দি সংস্করণ ‘অপরাজিতা’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি তাঁর নেতৃত্ব, সাহস ও কর্মজীবনের নানা সাফল্যের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আম্বানি বলেন, ‘অপরাজিতা’ নামটি অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের ব্যক্তিত্বকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরে। কারণ, তিনি জীবনে বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও কখনও পরাজয় স্বীকার করেননি। তাঁর জীবনসংগ্রাম এবং সাফল্য তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।
মুকেশ আম্বানি বলেন, অরুন্ধতী ভট্টাচার্য ২০১৩ সালে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার ইতিহাসে প্রথম মহিলা চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কঠিন দায়িত্ব, ঘন ঘন বদলি এবং কর্মজীবী মায়ের নানা চাপ সামলেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন।
রিলায়েন্স বোর্ডে অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন আম্বানি। তিনি জানান, ২০১৮ সালে রিলায়েন্স বোর্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকে অরুন্ধতী তাঁর অভিজ্ঞতা, স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি সমস্যাকে শুধু চিহ্নিত করেন না, বরং তার কার্যকর সমাধানের পথও দেখান।
অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার কথা তুলে ধরেন মুকেশ আম্বানি। এগুলি হল—পরিবারের মূল্যবোধকে সম্মান করা, ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষ না দেওয়া, আজীবন শিক্ষার্থী থাকা এবং সঠিক মানুষকে সঠিক দায়িত্ব দিয়ে নেতৃত্ব তৈরি করা। তাঁর মতে, ব্যর্থতা কোনও চূড়ান্ত রায় নয়; বরং তা ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান শিক্ষা ও প্রতিক্রিয়া।
আম্বানি আরও বলেন, নেতৃত্বের লক্ষ্য শুধু অনুসারী তৈরি করা নয়, বরং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা। তাঁর বক্তব্যে অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের নেতৃত্বের নীতি হিসেবে উঠে আসে—সঠিক মানুষকে সঠিক ভূমিকায় নিয়োগ করা, তাঁদের চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব দেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া এবং সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া সাহসী সিদ্ধান্তের পাশে থাকা।
ভারতের উন্নয়নে নারীদের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আম্বানি। তিনি বলেন, নারীরা এখন আর শুধু উন্নয়নের সুবিধাভোগী নন; তাঁরা উন্নয়নের নির্মাতা ও নেতৃত্বদাতা। ব্যবসা, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, সশস্ত্র বাহিনী এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
অনুষ্ঠান থেকে কর্পোরেট ভারতে কর্মজীবী নারী ও কর্মজীবী মায়েদের সহায়তার জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান মুকেশ আম্বানি। এই উদ্যোগকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অরুন্ধতী ভট্টাচার্য ও তাঁর মতো সফল নারীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগে সম্পূর্ণভাবে অংশ নেবে বলেও ঘোষণা করেন আম্বানি।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ে যেন বাধাহীনভাবে স্বপ্ন দেখতে পারে এবং প্রতিটি নারী যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারে—এমন একটি ভারত গড়ে তুলতে হবে। অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের জীবন সেই ‘অপরাজিতা’ মানসিকতারই প্রতীক বলে মন্তব্য করেন তিনি।